জয়নাব হত্যার বিচারের দাবি : উত্তপ্ত পাকিস্তানের সংসদ
ডিটেকটিভ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সরকার ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরাও পাঞ্জাব প্রদেশে নিহত শিশুর বিচার দাবিতে একমত হয়েছেন। চলমান ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দেশটির সংসদে। সংসদের নিম্নকক্ষে সরকার ও বিরোধীদলের সদস্যদের আলোচনার একপর্যায়ে গত সোমবার বিকাল চারটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয় অধিবেশন। ধারণা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা রোধ করতে সেদিনই একটি সবসম্মত প্রস্তাব পাস হবে। গত শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি তোলার পাশাপাশি শিক্ষা পাঠ্যক্রমে যৌন হেনস্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মতও দেন তারা। গত ৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কোরআন ক্লাসে শেষে বাসায় ফেরার পথে পাঞ্জাবের কাসুর শহর থেকে ছয় বছরের শিশু জয়নাবকে তুলে নিয়ে যায় দুস্কৃতকারীরা। সে সময় বাবা-মা ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে থাকায় খালার কাছে ছিলেন জয়নাব। পরে ৯ জানুয়ারি এক পুলিশ সদস্য শাহবাজ খান রোডে আবর্জনার স্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়না তদন্তে দেখা গেছে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা পাকিস্তান। ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা কাসুর শহরে পুলিশ প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে দু’জন নিহত হয়। গত শুক্রবারও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। গত শুক্রবার সংসদের আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব শিশেুদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমে নির্দিষ্ট অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করবার দাবি তোলেন। বলেন, ‘সংবিধানের ১৮তম সংশোধণীর পর শিক্ষার বিয়টি প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনও প্রাদেশিক সরকার শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের কোন উদ্যোগ নেয়নি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন জয়নাব ইস্যুতে জাতীয়স সংসদের কোনও প্রস্তাবই কার্যকর হবে না যদি না দেশব্যাপী সব কারিকুলামে সুনির্দিষ্ট অধ্যায় সংযুক্ত না করা হয়। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ বলেন, ওই এলাকায় আগের শিশু নিপীড়নের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে জয়নাবের হত্যার ঘটনা এড়ানো যেত। তিনি সংসদে জানান, গত তিন বছরে পাঞ্জাবে এই ধরণের ৭২০ টি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রাদেশিক সরকার কোনও হত্যাকারী বা ধর্ষককে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জয়নাবের মতো নিরীহ শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় যে সমস্ত সিরিয়াল রেপিষ্ট ও কিলাররা জড়িত তাদের প্রকাশ্য স্থানে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হোক। এ ছাড়া এসমস্ত অপরাধকে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করারও দাবি তোলেন তিনি।
পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির নেতা শিরীন মাজারি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল যেন জয়নাবের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করবার সুযোগ না নেয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাঁতি শান্ত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজলের নেতা নায়িমা কিশোয়ার বলেন, ইসলামি আইন কার্যকর না করা পর্যন্ত কাসুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামবে না। তিনি বলেন, ‘যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এমনকি অপরাধী ঘটনার শিকারকে হত্য্ াকরলেও শাস্তি একই থাকে। কিন্তু ইসলামি আইনে এই ধরণের অপরাধীর শাস্তি ফাঁসিতে ঝোলানো বা প্রকাশ্যে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।’